শুক্রবার, ১০ Jul ২০২৬, ০৮:৪০ অপরাহ্ন

চৌগাছায় ছাত্রলীগ নেতাকে পায়ের রগ কেটে হত্যাচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : যশোরের চৌগাছায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনের (২৬) রগ কেটে দুই পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলের প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালায়। এ সময় ইব্রাহিমের সহযোগী মিঠুন বিশ্বাস (২৫) আহত হন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড় ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার উপজেলা শহরে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ।

জড়িতদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। শুক্রবার রাতেই আহত ইব্রাহিমের বড় ভাই জাহিদুর রহমান মিলন চৌগাছা থানায় ১৩ জনের নামে মামলা করেছেন। ইব্রাহিম হোসেন বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে ও মিঠুন বিশ্বাস একই এলাকার মহেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।

চৌগাছা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান রাজু বলেন, সভাপতিকে রগ কেটে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে শনিবার সকাল থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চৌগাছা শহরে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ। পরে ওসির আশ্বাসের ভিত্তিতে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হলে আবারও মাঠে নামবে ছাত্রলীগ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইব্রাহিম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে মোটরসাইকেলে দুইজন চৌগাছা শহর থেকে নিজ গ্রাম বেড়গোবিন্দপুর যাচ্ছিলাম। চৌগাছা- বেড়গোবিন্দপুর সড়কের বেড়গোবিন্দপুর বাঁওড় ব্রিজ সংলগ্ন সড়কের একটি বাঁশঝাড়ের কাছে পৌঁছলে সেখানে ওতপেতে থাকা ১০-১৫ জন ব্যক্তি রাম দা, লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বেড়গোবিন্দপুর গ্রামের পারভেজ, মহব্বত মল্লিক, রকি, বিপুল মল্লিক ও আলমকে আমি চিনতে পেরেছি। অন্যদের চিনতে পারিনি। আমি দৌড় মেরেছিলাম। ওরা আমাকে ধরে রামদা দিয়ে আমার বাঁ পায়ে কোপ দিয়ে রগ কেটে দেয়। অপর পায়েও লাঠি, হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। মরে গেছি ভেবে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে চৌগাছা হাসপাতালে নিয়ে আসে।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হাদিউজ্জামান সিয়াম বলেন, ইব্রাহিমের বাঁ পায়ের শিরা ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কেটে গেছে। তার দুই পা ভারি কিছুর আঘাতে ভেঙে গেছে। আর মিঠুনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ ছিল। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হাবিবুর রহমানের পক্ষে ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন। তার প্রতিপক্ষ পারভেজ ও তার সহযোগীরা নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে। ওইসময় থেকেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

নগরকন্ঠ.কম /এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com